অনেকেই কেন যেন পাওয়ারের পিছনে ছুটে... নিজের আলোয় আলোকিত হতে চায় না !
পাওয়ার না দেখিয়ে কেউ কেউ কথাই বলতে পারে না, অনেকই নিজের নাম বলার আগেই বলে তার মামা জয়েন্ট সেক্রেটারি, অমুখের চাচাতো বোনের ভাসুর থানার ওসি, তালতো ভাইয়ের খালু মন্ত্রীর পিএস, মামাতো বোনের ননাসের দেবর র্যাবে আছেন, ভায়েরার ছোট ভাইয়ের শ্বশুর আর্মির অফিসার... কিন্তু আপনি কে?
আর রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা নাই বা বললাম ! আমি একবার গ্রামে গেছি, বাজারে একজন আমাকে পরিচয় দিচ্ছে আমি অমুক দলের থানা কমিটির সহ সম্পাদক - ঐ যে দেখেন রাস্তায় ব্যানার, ঐটা আমি !!!
একটা মানুষের পরিচয় দেয়ার জন্য কেন লতাপাতা লাগবে? শেকড় টা মজবুত হলে আর কিছুই লাগে না।
এই শেকড় মজবুত করে জ্ঞান, দক্ষতা, মানুষের সাথে মেলামেশা এবং নিজে একজন ভালোমানুষ হওয়া।
নিজের ভিতর এতো পাওয়ারের আলো থাকতে আমরা কেন অন্যের পাওয়ার খুঁজি?
আলিবাবা খ্যাত জ্যাক মা চীনের কোন মন্ত্রী বা এমপি নন, কিন্তু তার পাওয়ার একবার কল্পনা করেন! তাঁকে আমি বলতে শুনেছি "আমি সরকারের কাছে যাই না, সরকার তার প্রয়োজনে আমার কাছে আসে"।
অথচ এই মানুষটা টার অতীত খুবই সাধারণ একজন মানুষের মতো ছিল। তিনি পাওয়ার খুঁজতে যাননি, নিজের ভিতর এবং চারিপাশে অনেক আলো তৈরি করেছেন, যা যে কোন পাওয়ারকে ছাড়িয়ে গেছে !
এরকম আরও অনেক উদাহরণ দেয়া যায় বাংলাদেশে এবং সারা পৃথিবীতে। শুধুমাত্র টাকা দিয়েও পাওয়ার তৈরি হয় না, পাওয়ার তৈরি হয় তার জ্ঞান, দক্ষতা, সততা ও মানবিক গুণাবলী দিয়ে।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ আমাদের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার - একজন আলোকিত মানুষ। এ রকম আরও অনেকেই আছেন আমাদের দেশে যারা নিজেই নিজের পাওয়ার তৈরি করেছেন।
জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি আপনার সবচেয়ে বড় পাওয়ার "আপনি একজন ভালোমানুষ" !
একটা বটগাছ লাগাতে কেউ রাজি হয় না । কিন্তু তার নিচে বিশ্রাম নিতে সকালে প্রস্তুত।
একটা বিজনেস প্লান কেউ বিশ্বাস করে না। বিল্ডিং প্ল্যান সকলের চোখে পড়ে। উদ্যোক্তা হয়ে কেউ কষ্ট করতে চায়না। চাকরির জন্য বাবার জমি বিক্রি করতে পছন্দ করে। ছোট থেকে কেউ বড় হতে চায়না। প্রাকটিক্যালে যে বড় তার পিছে পিছে ঘুরতে চায়। সে ছোট থেকে বড় হয়েছে কিন্তু সেটা মানতে চায় না। বড় হাতি বিশ্বাস করে। ছোট হাতির খেলা দেখে মজা নেয়।
এ সকল হতাশাগ্রস্ত মানুষ কখনোই বড় মনের মানুষ হতে পারে না। তারা সর্বদাই আল্লাহকে দোষারোপ করে। নিজেকে মহান ভাবে। অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকে। কিন্তু অন্যদিকে বড় জিনিস পাওয়ার আশা করে। এভাবে চিন্তা করে আমার যদি এটা থাকতো ওটা থাকতো এটা ছিল ওটা ছিল কত দেখেছি। অন্যকে শেখায় ভরপুর। নিজেরই অনেক কিছু শেখার বাকি আছে এটা সে কখনোই বিশ্বাস করে না। এখনো সময় আছে সম্মান ও ক্যারিয়ার আসে কর্ম জীবন থেকে শিক্ষা জীবন থেকে নয়। বাবা-মায়ের সামর্থ্য অনুযায়ী তোমাকে মানুষ করবে। কিন্তু ক্যারিয়ার ও সম্মান তোমার কর্মফলে প্রকাশ পাবে ইনশাআল্লাহ ।
মোঃ ছামছুল দেওয়ান
Wealthy life point limited
No comments:
Post a Comment
please valldate tha captcha