Friday, April 1, 2022

বেল্ট উৎপাদনের কারখানা


 বেল্ট উৎপাদনের কারখানা 

বেল্ট উৎপাদনের কারখানা করে ব্যবসা করা যেতে পারে যদি সে ধরেন ইনভেস্ট করার ক্যাপাবিলিটি থাকে। বেল্ট উৎপাদনে ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য অবশ্যই যারা এই সংক্রান্ত ব্যবসা করছে তাদের মুখাপেক্ষী হতে হবে।  অথবা যেখান থেকে আপনি মেশিন নেবেন তারাই আপনাকে কোন জায়গা থেকে কাঁচামাল কিনে আনবেন সে সম্পর্কে একটা সুস্পষ্ট ধারণা দেবে।  এছাড়া চামড়া সংক্রান্ত ব্যবসার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাইলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে 1 বছর 4 বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স এর সুব্যবস্থা রয়েছে

Thursday, March 31, 2022

বাজারের ব্যাগ তৈরির ব্যবসা অথবা কারখানা করে ব্যবসা


 বাজারের ব্যাগ তৈরির ব্যবসা অথবা কারখানা করে ব্যবসা 

বাজারের ব্যাগ তৈরির ব্যবসা আরো একটা লাভজনক ব্যবসা।  এক্ষেত্রে ছালা দিয়ে বাজারে ব্যবসা করতে পারেন অথবা টিস্যু ব্যাগের ব্যবসা করতে পারেন। টিসু বেগ,  কাগজ এর ব্যাগ,  পাটের ব্যাগ, ইত্যাদি তৈরি করে পাইকারি দরে বিক্রি করে চমৎকার ব্যবসা করা যায়।আমরা আপনাদের সে ক্ষেত্রে সকল প্রকার সহযোগিতা করতে পারব ইনশাআল্লাহ। আপনারা যারা নতুন উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।আপনার ডিজিটাল ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সকল প্রকার সহযোগিতায় আমরা আছি আপনার পাশে। আমাদের সাথে যোগাযোগ ০১৭৩০৭৮২৩৮৬,০১৭৩৪৭০৯০৫৪

কিভাবে ব্যবসার আইডিয়া খুঁজে বের করবেন


 অনেক সময় আমরা এমন লোকজনকে দেখতে পাই তাদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা পয়সা হয়েছে কিন্তু ইনভেষ্ট করার জন্য বুদ্ধি খুজে পাচ্ছে না। যদি আপনার ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটে থাকে তবে আপনাকে আমার এই পোস্টে ওয়েলকাম জানাচ্ছি।  আজকে আমরা কিভাবে ব্যবসার আইডিয়া নিজে নিজে খুঁজে বের করা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করব।  ব্যবসার আইডিয়া জন্য আপনাকে এত পেরেশান হতে হবে না আজকের এই আর্টিকেলটি আপনি মনোযোগ সহকারে পড়েন।  একটু চোখ কান খোলা রাখলেই ব্যবসায়ীক দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের চারপাশে পর্যবেক্ষণ করলে কিন্তু খুব সহজে আমরা ব্যবসার আইডিয়া বের করতে পারি।  চলুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে আমরা আমাদের চারপাশে আমাদের ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষণ করব।  বেশি বকবক না করে চলুন আমরা মূল কথায় চলে যাই।


আপনার চারপাশে অসংখ্য ঘটনা ঘটছে সে গুলোকে পর্যবেক্ষণ করুন

আমরা যদি আমাদের চোখ কান খোলা রেখে এবং আমাদের চারপাশে একটু ব্যবসায়ীক দৃষ্টিতে তাকাই তাহলে হাজার হাজার ব্যবসা আইডিয়া খুঁজে পাবো

Thursday, March 24, 2022

জিনিসপত্রের দাম কেনো বাড়ছে জানতে চান? আসুন একটু পড়াশোনা করি....


 অনেক সময় আমরা এমন লোকজনকে দেখতে পাই তাদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা পয়সা হয়েছে কিন্তু ইনভেষ্ট করার জন্য বুদ্ধি খুজে পাচ্ছে না। যদি আপনার ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটে থাকে তবে আপনাকে আমার এই পোস্টে ওয়েলকাম জানাচ্ছি। 

আমাদের ওয়েলদী লাইফ পয়েন্ট লিমিটেড কোম্পানি দিচ্ছে ব্যবসা করার সুন্দর একটি মার্কেট প্লেস সেখান থেকে আপনারা আপনাদের যেকোনো ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

আমাদের রয়েছে,

আধুনিক মাল্টিন্যাশনাল অ্যাপ, যার মাধ্যমে আপনারা ইস্টর নিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন।

আমাদের রয়েছে অ্যাপ ভিত্তিক রেডিমেট ডিজিটাল কাস্টোমার আপনাদের ব্যবসার সেলের কোন ভয় নেই।

আমাদের রয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যার মাধ্যমে আমরা আপনাদের ব্যবসাকে প্রমোট করে থাকি এবং সকল ডিজিটাল কাস্টমারের কাছে পণ্য পৌঁছে দেই। আরো অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আমরা আমাদের মার্কেটপ্লেসকে সাজিয়েছি তাই আপনারা যারা ব্যবসা করার নিয়ত করেছেন অতিসত্বর আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। এবং হালাল ব্যবসা করে বেশি মুনাফা অর্জন করুন। আপনাদের পাশে আছেন আমাদের ওয়েলদী লাইফ পয়েন্ট লিমিটেড কোম্পানি শতভাগ বিশ্বাসে ব্যবসায় এক ধাপ এগিয়ে।


নোট: আমাদের  কোম্পানির অ্যাপে স্টর বরাদ্দ চলছে আপনার স্টরটি নিতে এখনি যোগাযোগ করুন।

মোবাইল নাম্বার:01730782386

ভিজিট করুণ।Wlifepoint.com

Wednesday, March 9, 2022

নিজেকে যদি কখনো মূল্যহীন মনে হয় তবে একই স্থানে না থেকে জায়গা পরিবর্তন করে দেখুন।


 #এই_সেই_বোতল.......... যার,


এক বোতল পানির মূল্য সাধারণ দোকানে ১৫ টাকা।


বাসে বিক্রি করে ২০ টাকায়। 


ফাইভ ষ্টার হোটেলে ২০০ টাকা এবং এয়ারপোর্টের ভিতরে ৩০০ টাকা। 


একই বোতল এবং একই ব্রান্ড পরিবর্তন শুধু স্থানের। ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় সেই একই জিনিসের দাম পরিবর্তন করে দিয়েছে। 


নিজেকে যদি কখনো মূল্যহীন মনে হয় তবে একই স্থানে না থেকে জায়গা পরিবর্তন করে দেখুন।


সাহস যোগাড় করে নিজের গন্ডি পরিবর্তন করে এমন স্থানে যান যেখানে মানুষ আপনাকে গুরুত্ব প্রদান করে।


নিজেকে এমন কিছু মানুষের মাঝে নিয়ে যান যারা আপনার মূল্য বুঝে আপনার কাজে উৎসাহ প্রদান করে।


নিজেকে এমন প্লাটফর্মে নিয়ে যান যেখানে আপনার মূল্য টা হয়ে যায় আপনার স্বপ্নের সমান...


❤️❤️❤️❤️👈👈👈

Sunday, March 6, 2022

কুটির শিল্পের ব্যবসা


 ১. কুটির শিল্পের ব্যবসা

অর্থাৎ ঘরের মধ্যে যে শিল্পের কাজ করা হয় তাকে কুটির শিল্প বলে।  নানান ধরনের কাজ করে সেগুলো বিক্রি করতে পারেন। এ ব্যবসার অনেক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মহিলারা এসব কাজে দক্ষ।


 নকশি কাঁথা । নকশিকাঁথার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কেননা অধিকাংশ মানুষই নকশিকাঁথা পছন্দ করে। অতএব আপনি নকশি কাঁথা তৈরি করে অনলাইনে অথবা বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতে পারেন। এই কাজে যদি আপনি লেগে থাকেন এবং পরিশ্রম করেন তাহলে খুব অল্প সময় আপনি সফলতার মুখ দেখতে পারবেন।

নকশি রুমাল। মানুষ নকশাকৃত রুমাল পছন্দ করে। অতএব আপনি হাত দিয়ে রুমালকে বিভিন্ন রকম ডিজাইন করে তা বিক্রি করতে পারেন।

বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন রকম জিনিস তৈরি করা যায়। যেমন : ঢাকনা, ফুলদানি, কলমদানি, কুলা, ধামা, ঝুড়ি ইত্যাদি। এই জিনিসগুলো কুটির শিল্পের মধ্যে পড়ে। অতএব আপনি বাঁশ দিয়ে এ রকম নানা জিনিস তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন অথবা সরাসরি হাট-বাজারে বিক্রি করতে পারেন

Thursday, March 3, 2022

Saturday, February 19, 2022

আপনার সকলকে ভালোবেসে সকলের জন্য কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।


মানুষের গুণাবলি : 


মানুষের মধ্যে এমন কিছু গুণ আল্লাহ দান করেছেন, যা অন্য সৃষ্টির মধ্যে নেই। সুশ্রী চেহারা, সুষম দেহ, সুষম প্রকৃতি, অঙ্গসৌষ্ঠব ইত্যাদি একমাত্র মানুষকে দেওয়া হয়েছে, যা অন্য কোনো জীবকে দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া বুদ্ধি ও চেতনায় মানুষকে বিশেষ স্বাতন্ত্র্য দান করা হয়েছে। ফলে মানুষ সমগ্র ঊর্ধ্বজগৎ ও অধোজগেক নিজের কাজে নিয়োজিত করতে পারে। তাকে বিভিন্ন সৃষ্ট বস্তুর সংমিশ্রণে বিভিন্ন শিল্পদ্রব্য প্রস্তুত করার শক্তি দেওয়া হয়েছে। বাকশক্তি ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের যে নৈপুণ্য মানুষ লাভ করেছে, তা অন্য কোনো প্রাণীর মধ্যে নেই। ইঙ্গিতে মনের কথা অন্যকে বোঝানো, লেখা ও চিঠির মাধ্যমে গোপন ভেদ অন্য পর্যন্ত পৌঁছানো—এসব মানুষেরই স্বাতন্ত্র্য। সব প্রাণী একক বস্তু আহার করে। কেউ কাঁচা গোশত, কেউ মাছ আবার কেউ ফলমূল আহার করে। একমাত্র মানুষ সংমিশ্রিত খাদ্য প্রস্তুত করে ভক্ষণ করে। বিবেক-বুদ্ধি ও চেতনা মানুষের সর্বপ্রধান শ্রেষ্ঠত্ব। এর ফলে সে স্বীয় সৃষ্টিকর্তা ও প্রভুর পরিচয় এবং তাঁর পছন্দ ও অপছন্দ জেনে পছন্দের বিষয় গ্রহণ করে এবং অপছন্দের বিষয় বর্জন করে।

আপনি কি একজন উদ্যোক্তা? তাহলে অবশ্যই পড়ুন।
দেখুন আপনার সাথেও মিলে যায় কিনা...

আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা একবার বলেছিলেন,

" যখন নিজের কাছের মানুষ, আত্নীয় বা বন্ধুবান্ধবদের কাছে কোনো প্রডাক্ট বিক্রি করতে যাবেন, তখন তারা ভাববে আপনি তাদের সাথে ব্যবসা করছেন। তাদের মাধ্যমে টাকা আয় করছেন। যত কম টাকাতেই আপনি বিক্রি করেন না কেন, খুব কম মানুষই সেটা এপ্রিসিয়েট করবে।" 

কিছু কিছু মানুষ সব সময়ই থাকবে যারা আপনার খরচ, সময়, এফোর্ট কোনো কিছুর পরোয়া করবে না । তারা বরং অন্যকে টাকা দিতে, এমনকি অন্যের কাছে ধোঁকা খেতেও দ্বিধা করবে না, তারপরও আপনার কাছ থেকে কিছু কিনতে তাদের বাঁধবে । 

কারণ, তাদের মাথায় সবসময় এটাই কাজ করবে যে, " ও আসলে আমার কাছ থেকে কত টাকা আয় করলো ? "

বরং এটা কখনো ভাববে না যে, 
"ওর কাছ থেকে কিনে আমার কত টাকা সেভ হলো ? "

আপনি যখন ব্যবসা শুরু করবেন, তখন দেখবেন, প্রথম যে মানুষগুলো আপনাকে বিশ্বাস করবে তারা হলেন সবাই আপনার অপরিচিত মানুষ । 

সেই প্রথম সময়টায় আপনার খুব কাছের বন্ধুরা হয়ত আপনার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলবে। কেউ কেউ হয়ত আপনার বিপক্ষেই দাঁড়িয়ে যাবে। অন্যরা হয়ত ভাববে আপনি কিছুই করতে পারবেন না, আপনাকে দিয়ে কিছুই হবে না। 

এরপর একটা সময় আসবে, যখন আপনি আপনার পরিশ্রম আর লেগে থাকার ফল পাবেন। হয়ত একটা ফ্যামিলি ডিনারের সবার গেট-টুগেদারের বিল দিবেন।

দেখবেন সেই টেবিলটায় আপনার সব বন্ধু-বান্ধব, কাছের মানুষজন সবাই সেদিন উপস্থিত আছেন। 
শুধু সেই অপরিচিত মানুষগুলোই নেই।

মোঃ সামসুল দেওয়ান

Friday, February 18, 2022

মাত্র ১৬ টাকা থেকে হাজার কোটি-সেখ আকিজ উদ্দিন


 মাত্র ১৬ টাকা থেকে হাজার কোটি-সেখ আকিজ উদ্দিন

                মাত্র ১৬ টাকা থেকে হাজার কোটি-সেখ আকিজ উদ্দিন

শূন্য থেকে শিখরে— কথাটি বলা সহজ কিন্তু দেখানো কঠিন। আর সেই কঠিন বাস্তবতাকে জয় করেছিলেন প্রয়াত ব্যবসায়ী সেখ আকিজ উদ্দিন। মাত্র ১৬ টাকাকে পুঁজি করে ঘর ছেড়েছিলেন এই মানুষটি। কিন্তু আজ তিনি সমাজে প্রতিষ্ঠিত একজন ব্যবসায়ী। হাজার কোটি টাকার মালিক। ‘মালিক হবে গরিব আর প্রতিষ্ঠান হবে ধনী’ নীতিতে বিশ্বাসী তিনি। এত সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও সারাটি জীবন কাজ করে গেছেন শ্রমিক, দিনমজুর আর অসহায় মানুষের কল্যাণে। গড়ে তুলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, হাসপাতালসহ আরও অনেক বড় বড় সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। 


মাত্র ১৬ টাকা পুঁজি নিয়ে ফেরিওয়ালার শিল্পপতি হওয়ার গল্পটি রূপকথাতেই মানায়। বাস্তবে কখনো কি তা সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব। আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সেখ আকিজ উদ্দিন এমনই এক বাস্তব গল্পের নায়ক। তিনি খুলনার ফুলতলা থানার মধ্যডাঙ্গা গ্রামে ১৯২৯ সালে জন্ম নেন। বাবা খুদে ব্যবসায়ী সেখ মফিজউদ্দিন ও মায়ের নাম ছিল মতিনা বেগম।


সাত-আট বছরের খুদে আকিজ বাবার ঘাড়ে ঝোলানো পণ্যবাহী বাঁকের এক ঝুড়িতে বসে থাকতেন। অপর ঝুড়িতে থাকত নানান পদের সবজি। ফেরিওয়ালা বাবার সঙ্গে পথে পথে ঘুরে তখনই সঞ্চয় করে নিয়েছিলেন ব্যবসায়িক স্পৃহা। কিন্তু বাবার একার যৎসামান্য আয়। তাদের ইচ্ছা থাকলেও দারিদ্র্যের কশাঘাতে আকিজের পড়ালেখায় মন বসল না। স্কুলেও যাওয়া হয় অনিয়মিত। এখানে ওখানে ঘুরেফিরে আর সঙ্গীদের সঙ্গে খেলা করে সময় কাটে বেশ কিছুদিন। কিন্তু না, স্কুলে আর ফিরে যাওয়া হয় না তার। তারপর মাত্র নয় বছর বয়সে মায়ের সহযোগিতায় চকোলেট, বাদামের ফেরিওয়ালা হয়ে গেলেন। সেই থেকেই শুরু।


পরিবারের সবাইকে নিয়ে থাকতেন একটি কুঁড়েঘরে। বাড়ির অদূরেই বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ। এরপর ছিল খুলনার বেজেরডাঙ্গা রেলস্টেশন। সেখানেই ছোট্ট আকিজের ফেরি করে এটা ওটা বিক্রির কাজ শুরু। যখন মোটামুটি একটু ব্যবসায়িক জ্ঞান চলে এলো তখনই নতুন চিন্তা মাথায় চেপে বসল। ১৯৪২ সালে বাবার কাছ থেকে মাত্র ১৬ টাকা নিয়ে বাড়ি ছাড়েন। গন্তব্য কলকাতা। সেখানে গিয়ে আশ্রয় হলো শিয়ালদহ রেলস্টেশনে। সারা দিন ঘোরাফেরা, কাজের সন্ধান করা আর রাত হলে স্টেশনের এক কোণে কাগজ বিছিয়ে শুয়ে পড়া। তার সারা দিনের খাবার ছিল ছয় পয়সার ছাতু। এদিকে দ্রুত টাকা ফুরিয়ে আসছে আবার উপযুক্ত কাজও খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তখন অনেক ভেবে-চিন্তে কমলা লেবুর ব্যবসা শুরু করলেন। পাইকারি দরে কমলা কিনে হাওড়া ব্রিজের আশপাশে ফেরি করে খুচরা বিক্রি করা শুরু করেন। সেজন্য পুলিশকে দুই টাকা করে ঘুষও দিতে হতো তাকে। এরপর আরেকটি নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা আসে তার মাথায়। 


ভ্রাম্যমাণ মুদির ব্যবসা। কিন্তু পুলিশি ঝামেলায় তিন দিনের কারাবাসে সে ব্যবসাও বাদ দিতে হয়। এর কিছুদিন পর এক পেশোয়ারি ব্যবসায়ীর সঙ্গে পাড়ি জমান পেশোয়ারে। ব্যবসার স্বার্থে তাকে পশতু ও হিন্দি ভাষা শিখতে হয়েছিল। এভাবেই কেটে গেল দুই বছর। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্রান্তিকাল চলছে। মোটামুটি ১০ হাজার টাকা পুঁজি হলে আকিজ উদ্দিন বাবা মায়ের কাছে ফিরে আসেন। কিন্তু সুখ বেশিদিন সইল না। অল্পদিনের ব্যবধানে বাবা-মা দুজনেই মারা গেলেন। তখন আকিজ উদ্দিনের বয়স মাত্র ১৯। কি করবেন কিছু ভেবে পাচ্ছিলেন না। আকিজ উদ্দিন বিয়ে করে ঘরজামাই হলেন। শ্বশুরের কৃষিকাজে তিনি মন দিলেন না। এক বন্ধুর বাবা বিধুভূষণের বিড়ির ব্যবসা দেখে উৎসাহিত হন। সেই সুবাদে বিড়ি তৈরি করে বিক্রির ধারণাটি মাথায় আসে।


১৯৫২ সালে দুজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে নেমে পড়েন বিড়ির ব্যবসায়। অল্পদিনের মধ্যে লাভের মুখ দেখা যায়। তখন বেজেরডাঙ্গা রেলস্টেশনের পাশে একটি মুদির দোকান দেন। 


১৯৫৪-৫৫ সালের দিকে দোকানের বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার টাকার মতো। হঠাৎ এক রাতে দোকানে আগুন লেগে যায়। দোকানের ভিতর থেকে কোনোমতে ঘুমন্ত আকিজ উদ্দিন বের হয়ে আসেন কিন্তু সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সব হারিয়ে এক মুহূর্তের জন্য তিনি মনোবল হারাননি। দৃঢ়বিশ্বাস নিয়ে শূন্য থেকে আবার শুরু করেন। এরপর আবার নতুন করে আপন লোকদের সহায়তায় দোকান শুরু করেন। এবার শুরু করলেন ধান, পাট, চাল, গুড় আর ডালের ব্যবসা। সবক্ষেত্রে তার মূলধন ছিল বিশ্বস্ততা। তাকে সবাই নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করত। ১৯৬০ সালে তিনি যশোরের সীমান্তবর্তী নাভারণ পুরাতন বাজারে চলে যান। সেখানেই তিনি নতুন করে বিড়ির ব্যবসা শুরু করেন। গড়ে তোলেন বিড়ি ফ্যাক্টরি। ধীরে ধীরে অন্যান্য ব্যবসাতেও মনোনিবেশ করেন।


নাভারণের বিড়ি ফ্যাক্টরি চালু করতে গিয়েও গ্রাম্য কূটচালের শিকার হয়েছিলেন। এ ষড়যন্ত্রগুলোই তাকে সমাজে স্থান করে দিয়েছিল। কেননা তিনি ছিলেন মিষ্টভাষী-সদালাপি। তাছাড়া নাভারণের দুস্থ নারী-পুরুষের কর্মস্থলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি। এ মেহনতি জনতাই তাকে সমর্থন জুগিয়েছেন।


ছেলেবেলা থেকেই তিনি ছিলেন সংগ্রামী। রেলের এক ছাদ থেকে অপর ছাদে লাফিয়ে তার জীবনের ভারবহন শুরু। ব্যবস্থাপক হিসেবে তিনি ছিলেন প্রশংসনীয়। ব্যবসা থেকে পরিবার কোথাও তার ব্যবস্থাপনা নীতির জুড়ি ছিল না। ব্যবসায় বিপণনকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রথম জীবনে তিনি নিজেই বিপণনের কাজ করতেন। এক্ষেত্রে তার বিশেষ কিছু কৌশল ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দুর্গত এলাকায় কোম্পানির পণ্য পৌঁছাত না। কিন্তু তিনি কর্মকর্তাদের ডেকে বলতেন, সুযোগটি কাজে লাগাতে হবে। অতিরিক্ত খরচ হলেও সেখানে পণ্য পৌঁছাতে হবে। তাতে সামাজিক দায় মিটবে, একই সঙ্গে আকিজ ব্র্যান্ডের পরিচিতি বাড়বে। এমনকি এককভাবে বিপণন করা সম্ভব হবে। 


তিনিই প্রথম বাংলাদেশে রেডিওতে পণ্যের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা চালু করলেন। তার গাড়িতে আকিজ বিড়ির বিজ্ঞাপন সেঁটে দিয়েছিলেন। আশির দশকে ব্যবসা যশোর কেন্দ্রিক থাকা অবস্থায় তিনি বিপণনে প্রতিনিধি নিয়োগ করেন। তার আগে তিনি নিজে বিভিন্ন বাজারে বিপণন করেছেন।


তার নীতি ছিল ‘মালিক হবে গরিব আর প্রতিষ্ঠান হবে ধনী’। এই নীতির ওপর ভিত্তি করে কোম্পানি থেকে তিনি বেতন নিয়েছেন। তার বেতনের চেয়ে অনেক কর্মকর্তার বেতন ছিল বেশি। তার ব্যবসায়িক মালিকানায় সন্তানদের অংশীদার করেছেন। আর নিজের অংশ রেখেছেন কম। তিনি ব্যবসায় সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তনে যেমন ছিলেন উদ্ভাবনী গুণে অনন্য, তেমনি তিনজন স্ত্রীর সংসারে ছিলেন দৃঢ়চেতা। 


সন্তান লালন-পালনে ব্যবসায়িক ব্যস্ততা তার বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বিত্ত-বৈভবের মধ্যে থেকেও সন্তানরা লেখাপড়া শিখেছেন এবং সাদামাটা জীবন পার করেছেন। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে যে সন্তানকে যে জায়গায় উপযুক্ত মনে করেছেন সেখানে কাজে লাগিয়েছেন। ২০০৬ সালে মারা যাওয়ার পর আজও এ বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের কোনো অধঃপতন লক্ষ্য করা যায়নি। বরং সন্তানদের দক্ষ ভূমিকায় ব্যবসাটি নিয়মিত ধারায় এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে।


তার যত ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠান

রেলস্টেশনে ঘুরে ঘুরে ছোট্ট আকিজ শুরু করেন চকোলেট, আচারের ব্যবসা। তার কিছুদিন বাদে ট্রেনে চেপে তেঁতুল, আচার কিংবা মাছ নিয়ে তিনি কলকাতা যেতেন। সেখান থেকে চকোলেট, বিস্কুটের ফেরি নিয়ে গ্রামে ফিরতেন। সেই ব্যবসা থেকে অর্জিত টাকায় বাবার পরামর্শে ডাবের ব্যবসা শুরু করেন। তারপর কলকাতায় গিয়ে ঘুরে ঘুরে লেবুর ব্যবসা করে বেশ লাভবান হন। এর কিছুদিন পর কলকাতাতেই ভ্রাম্যমাণ মুদির দোকানের ব্যবসা করেন। হরেক রকম জিনিস বিক্রি করে লাভও হচ্ছিল ভালো। তারপর পেশোয়ারে গিয়ে তিনি আবারও ফলের ব্যবসা করেন। এরপর বাবা মায়ের কাছে ফিরে এসে নতুন কিছু করার পরিকল্পনা করেন। 


১৯৫২ সালে আকিজ তার বন্ধুর বাবা ‘বিধু’ বিড়ির মালিক বিধুভূষণের অনুগ্রহ-সহায়তা-পরামর্শে বিড়ির ব্যবসা শুরু করেন। বেজেরডাঙ্গা রেলস্টেশনের পাশে করা দোকানটি আগুনে পুড়ে গেলে তিনি কিছুটা ভেঙে পড়েন। কিন্তু ধৈর্যশীল আকিজ আবার ঘুরে দাঁড়ান। তিনি স্থানীয় মহাজনদের সহায়তায় আবার দোকান নির্মাণ করেন। একই সঙ্গে শুরু করেন ধান, পাট, চাল, ডালের ব্যবসা। এরপর ১৯৬০ সালে আকিজ যশোরের নাভারণে এসে আকিজ বিড়ির প্রসার ঘটান। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোজাহের বিশ্বাস আকিজকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। আকিজ আর পেছনে ফিরে তাকাননি। নাভারণ পুরনো বাজারে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আজকের সবচেয়ে বড় বিড়ি তৈরির কারখানা আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরি। 


এরপর ১৯৬০ সালে অভয়নগরে অত্যাধুনিক চামড়ার কারখানা এসএএফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ১৯৬৬ সালে ঢাকা টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজ, ১৯৭৪ সালে আকিজ প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ১৯৮০ সালে আকিজ ট্রান্সপোর্টিং এজেন্সি লিমিটেড গড়ে তোলেন। ১৯৮০ সালে তার অপর ব্যবসা নাভারণ প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৬ সালে গড়ে তোলেন জেস ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড, ১৯৯২ সালে আকিজ ম্যাচ ফ্যাক্টরি লিমিটেড, ১৯৯৪ সালে আকিজ জুট মিল লিমিটেড, ১৯৯৫ সালে আকিজ সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, একই বছর আকিজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড তার ব্যবসায় যুক্ত হয়। আকিজ পার্টিক্যাল বোর্ড মিলস লিমিটেড আসে ১৯৯৬ সালে। ব্যবসার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি হিসেবে দেখা যায় ১৯৯৭ সালে আকিজ হাউজিং লিমিটেড, ১৯৯৮ সালে সাভার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ২০০০ সালে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, একই বছর আকিজ অনলাইন লিমিটেড, নেবুলা ইনক লিমিটেডের সংযুক্তি।


উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী ও ব্যবসায়ী দিকপাল আকিজ উদ্দিন জীবনের প্রায় শেষ দিকে এসেও নিজের কাজে ক্লান্ত হননি। ২০০১ সালে আকিজ করপোরেশন লিমিটেড, আকিজ কম্পিউটার লিমিটেড, আকিজ ইনস্টিটিউট অ্যান্ড টেকনলজি লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। এর বছর তিন পর ২০০৪ সালে আকিজ অ্যাগ্রো লিমিটেড এবং ২০০৫ সালে আকিজ পেপার মিলস্ প্রতিষ্ঠা করে তিনি বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কিংবদন্তির নায়কে পরিণত হন। তিনি ব্যবসার পাশাপাশি সেবামূলক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, ১৯৮৯ সালে আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টার ও ২০০৪ সালে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। এ ছাড়াও ১৯৮০ সালে আদ্-দ্বীন শিশু-কিশোর নিকেতন, ১৯৮৫ সালে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ও আদ্-দ্বীন ফোরকানিয়া প্রজেক্ট গড়ে তোলেন নিজের উদ্যোগে। শিক্ষা বিস্তারেও তার ভূমিকা ছিল। সেবামূলক খাতের অধীনে তিনি ১৯৯৮ সালে আকিজ কলেজিয়েট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। আকিজ গ্রুপের এই বিস্তৃতির ধারাবাহিকতা ধরে আকিজ উদ্দিনের মৃত্যুর পরেও ২০১০ সালে গড়ে ওঠে আকিজ ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ।


বিড়ি ব্যবসার উত্থান

বিড়ি থেকে শুরু করে দিয়াশলাই, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, সিমেন্ট, টোব্যাকো, টেক্সটাইল, পার্টিকেল বোর্ডসহ ২৩টি ক্যাটাগরিতে সেখ আকিজ উদ্দিনের ব্যবসা। ব্যবসার প্রসার একদিনে এভাবে বিস্তৃতি লাভ করেনি। তিল তিল করে গড়ে তুলতে হয়েছে বিশাল এই ব্যবসার ক্ষেত্র। মাঝে মাঝে হয়তো এমনভাবে হোঁচট খেয়েছেন তাতে সর্বশান্তই বলা যায়। কিন্তু না, থেমে না থেকে উত্থান ঘটিয়েছেন সেখান থেকেই। আকিজ গ্রুপে যত নতুন ব্যবসায় যুক্ত হোক না কেন ভিত্তি ব্যবসা ছিল বিড়ির। যৎসামান্য পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই ব্যবসা বর্তমানে একটি গ্রুপ অব কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। প্রথমদিকে হয়তো আকিজ উদ্দিন নিজেও ভাবতে পারেননি, তার হাতের এই ছোট্ট প্রতিষ্ঠানটি দিন বদলের সঙ্গে নিজের অবস্থান এতটা শক্ত করতে পারবে। বর্তমানে ৩ লাখ ২ হাজার লোক এখানে কাজ করছেন।


ফেরিওয়ালা থেকে সেখ আকিজের এ সংগ্রামী জীবন আজ শিল্পশক্তিতে পরিণত হয়েছে। আজ তিনি তুচ্ছতা আর নিন্দাকে ছাপিয়ে অপরের অনুকরণের ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষার পাট চুকাতে না পারলেও পৃথিবীর পাঠশালা থেকে তার অর্জিত জ্ঞান সমৃদ্ধির জন্য সহায়তা করেছে। তিনি নিজেই একটি বিশাল বিস্তৃতির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। ছাই স্পর্শ করে সোনা ফলিয়েছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তার উদ্যোগ্যের সুফল ভোগ করছে লাখো মানুষ। ব্রিটিশ, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি অর্থনীতির তিনটিই তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। নানা চড়াই উতরাইয়ের মাঝে ব্যবসাকে বয়ে নিয়ে শিখরে তোলা চারটিখানি কথা নয়।


তবে সে কঠিন কাজও করেছেন সেখ আকিজ উদ্দিন। ব্যবসা বাণিজ্য, অর্থনীতির রূপকার সেখ আকিজ উদ্দিন অনেকের জন্য ছিলেন বৃক্ষের ছায়াস্বরূপ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সেখ আকিজ উদ্দিন আকিজ শিল্প গোষ্ঠী ৯৫০ কোটি টাকা শুল্ক কর সরকারকে প্রদান করে রেকর্ড সৃষ্টি করে। আকিজ জুট মিল এশিয়ার অন্যতম রপ্তানিমুখী পাটকলে পরিণত হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া সোনালি আঁশের সম্মান ফিরিয়েছে জাদুকর আকিজ।


সমাজসেবক

সেখ আকিজ উদ্দিন সমাজসেবায় নিজেকে যুক্ত করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মানব কল্যাণে তিনি যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়াসহ ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন হাসপাতাল। এ ছাড়াও বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন দুই হাতে। ২০০০ সালে যশোরে ভয়াবহ বন্যার সময় ত্রাণ নিয়ে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন শার্শা-ঝিকরগাছা এলাকায় আকিজ উদ্দিন। এ সময় তিনি থেকে প্রায় এক কোটি টাকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন অসহায় বন্যার্তদের মাঝে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর মসজিদ নির্মাণ করেছেন। স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ গরিবের সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। 


আকিজ উদ্দিনের অন্যতম সৃষ্টি হচ্ছে আদ্-দ্বীন ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ট্রাস্ট দক্ষিণাঞ্চলসহ আরও কিছু জেলায় মানব কল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া তিনি ১৯৮৯ সালে আদ্-দ্বীন ওয়েল ফেয়ার সেন্টার, ২০০৪ সালে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন, ১৯৮০ সালে আদ্-দ্বীন শিশু কিশোর নিকেতন, ১৯৮৫ সালে আদ্-দ্বীন নার্সিং ইনস্টিটিউট, আদ্-দ্বীন ফোরকানিয়া প্রজেক্ট, ১৯৯২ সালে আকিজ কলেজিয়েট স্কুল, ১৯৯৮ সালে সখিনা স্কুল ফর গার্লস প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিভিন্ন রকম সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। বেনাপোলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সারথী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আকিজ সাহেবের সঙ্গে আমি ১৯৭৮ সাল থেকে ব্যবসা করছি। ২০০০ সালে বন্যায় তার অবদানের কথা আমরা কোনোদিন ভুলব না।


শত্রুকেও করেছেন পুনর্বাসন

উপকার করে প্রতিশোধ নিতেন সেখ আকিজ উদ্দিন। অর্থাৎ তার কোনো শত্রু তৈরি হলে তিনি তার কোনো ক্ষতি করতেন না। উল্টো উপকার করতেন। আকিজ উদ্দিনের বড় ছেলে ডা. সেখ মহিউদ্দিন আকিজ উদ্দিনের এই গুণের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘বাবা উপকার করে প্রতিশোধ নিতেন। একটি ঘটনার কথা আমার মনে আছে। নাভারণ পুরাতন বাজারের ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন আজিজ মিয়া। বিড়ি ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের নিয়ে একটি ঘটনায় আজিজ মিয়া বাবাকে বন্দুক দিয়ে গুলি করতে চান। আমি তখন ক্লাস থ্রিতে পড়ি। আমি বাবার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বাবা অল্পতে রক্ষা পান। পরে বাবা আজিজ মিয়ার ছেলেদের চাকরি ও টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। কারও ক্ষতি করেননি। এভাবেই উপকার করে প্রতিশোধ নিয়েছেন।’


ডা. সেখ মহিউদ্দিন আরও বলেন, ‘বাবা আমাকে উপদেশ দিয়ে গেছেন, ‘কারও হক নষ্ট করবা না। কথা দিয়ে কথা ঠিক রাখবা। বাবার মুখের কথাই ছিল ব্যাংকের চেক। পাওনাদারকে তিনি যেদিনের কথা বলতেন সেদিনই টাকা দিতেন। শিক্ষার প্রতি তার অনুরাগ ছিল। আমাদের সব ভাইবোনকে তিনি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। আমরা তার জীবনের কাছ থেকে পাঠ নিয়ে স্বশিক্ষিত হয়েছি। মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেছি।’ এক কথায় অত্যন্ত সৎ মানুষ ছিলেন হাজার কোটি টাকার মালিক আকিজ উদ্দিন।


আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

মানসম্মত সেবা ও কম খরচের কারণে গর্ভবতী মায়েদের আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে আকিজ উদ্দিন প্রতিষ্ঠিত আদ্-দ্বীন হাসপাতাল। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে গর্ভবতী মায়েরা এখানে আসতে পছন্দ করে। হাসপাতাল কর্মীদের সেবাদানের মানসিকতায় তারা খুশি।


এখানকার ডাক্তার, নার্স সবাই খুব আন্তরিক বলে জানায় এখানকার রোগীরা। তাছাড়া এখানকার খরচ অন্য হাসপাতালের তুলনায় অনেক কম। আদ্-দ্বীন হাসপাতাল অনেক আগে থেকেই নারী ও শিশুদের জন্য পরিচিত। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েরা এই হাসপাতালকে খুবই পছন্দ করে।


তার অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে নারীবান্ধব একটা পরিবেশ।


এখানে মহিলা চিকিৎসক ও নার্স দ্বারা সবকিছু পরীক্ষা করাসহ বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত সবকিছু মহিলাদের দ্বারাই পরিচালিত।


হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, এখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ গর্ভবতী মা চেকআপে আসে। তাদের দক্ষকর্মী দ্বারা সেবা দেওয়া হয়। এখানে ২৪ ঘণ্টা কনসালটেন্ট চিকিৎসক রয়েছে। এখানে ডেলিভারি যে ইউনিট রয়েছে তাও দক্ষ কর্মীদের দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।


পারিবারিক ও ব্যক্তিজীবন

কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েও সেখ আকিজ উদ্দিন খুবই সাধারণ জীবন যাপন করতেন। সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। পাশাপাশি নিজের জীবন অভিজ্ঞতার আলোয় তিনি তাদের আলোকিত করেছেন। আকিজ উদ্দিনের ১৫ সন্তান। ১০ ছেলে ৫ মেয়ে। বড় ছেলে ডা. সেখ মহিউদ্দিন আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক। এ ছাড়া সেখ মোমিন উদ্দিন, সেখ আফিল উদ্দিন, সেখ আমিন উদ্দিন, আজিজ উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, বশির উদ্দিন, জামিল উদ্দিন আকিজ শিল্প গ্রুপের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করেন। সেখ আফিল উদ্দিন ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছোট দুই ছেলে জসিম উদ্দিন ও শামিম উদ্দিন লন্ডনে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আকিজ উদ্দিনের ৫ মেয়ে সকিনা, শাহিনা, আঁখি, নাজমা ও নাসিমা। একাধিক বিয়ে করেছিলেন সেখ আকিজ উদ্দিন।


১০ অক্টোবর ২০০৬ ইন্তেকাল করেন তিনি। তার দুরদর্শিতার কারণেই আজ আকিজ গ্রুপ দেশের অন্যতম শিল্প গ্রুপ হিসেবে দেশে-বিদেশে স্বীকৃতি পেয়েছে। নিজে সাধারণ জীবন যাপনের পাশাপাশি সন্তানদেরও প্রাচুর্যের মধ্যে না রেখে খুব সাধারণভাবে মানুষ করেছেন। সততা, ধৈর্যশীলতা, নিজস্ব মেধা, সহনশীলতার কারণেই তিনি আকিজ গ্রুপকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গেছেন।

মোঃ সামসুল দেওয়ান

Thursday, February 17, 2022

কিভাবে বিজনেস শুরু করবো বা কি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে কাজ শুরু করবো? এই প্রশ্নটা সবার !


 সত্যি বলতে আমাদের প্রতিভা বা আপনার অর্থ এককভাবে তেমন কিছুই করতে পারবে না, কিন্তু যখন প্রতিভা আর অর্থের সমন্বয় ঘটে তখন কি হয় জানেন?

ধরা দেয় অভূতপূর্ব সাফল্য! আর সেটার জন্য সবচাইতে বেশি প্রয়োজন আপনার আর আমাদের একত্রিত হওয়া। 

একটা বিষয় একটু চিন্তা করে দেখুন, যেই অর্থ দিয়ে আপনি অলি-গলিতে একটা মুদির দোকান দিতে পারবেন সেই একই অর্থ দিয়ে কৌশলে ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে আপনি সারা বাংলাদেশে বা সারা পৃথিবীতে বিজনেস করতে পারবেন! এখন আপনি নিজেকে একজন মুদির দোকানির জায়গায় দেখতে চান নাকি শিল্পপতির জায়গায় সেটা আপনার ব্যাপার! 


কিভাবে বিজনেস শুরু করবো বা কি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে কাজ শুরু করবো? এই প্রশ্নটা সবার !

আমার উত্তর একটাই অর্থাৎ একটাই ফর্মুলা “প্রেম করা শুরু করেন”।

আইডিয়ার সাথে প্রেম, ব্যবসার সাথে প্রেম এবং কাজের সাথে প্রেম! বিজনেসকে প্রেমিকার বা প্রেমিকের মতো ভালবাসতে হবে। 

কোন মেয়ে কে ইম্প্রেস করার জন্য কি কি না করেন আপনারা, কত রকমের ফর্মুল বের করেন তাকে ইম্প্রেস করার জন্য।

বৃষ্টিতে ভিজেন, রোদের মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন, এরকমও বলে ফেলেন - পাহাড় থেকে লাফ দিবো, সাগর পাড়ি দিবো। সবচেয়ে সুন্দর ড্রেস টা পরেন, দামী দামী গিফট দেন, প্রেম করার সময় কেউ ঘড়ি দেখা বা সময় দেখা পছন্দ করেন, পারলে ২৪ ঘণ্টাই প্রিয় মানুষের সাথে থাকেন। মেয়েরাও একই রকম ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকেন।

এই আবেগ, এই ভালোবাসা, এই প্রেম, এই লেগে থাকা, এই উচ্ছ্বাস, এই, খুশী এবং এই কষ্ট আপনি আপনার ভালোলাগার বিজনেস কনসেপ্টে ঢেলে দিন - আপনার সফলতা কে ঠেকায়।



Wednesday, February 16, 2022

আপনি কি একজন উদ্যোক্তা? তাহলে অবশ্যই পড়ুন। দেখুন আপনার সাথেও মিলে যায় কিনা


 আপনি কি একজন উদ্যোক্তা? তাহলে অবশ্যই পড়ুন।

দেখুন আপনার সাথেও মিলে যায় কিনা...


আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা একবার বলেছিলেন,


" যখন নিজের কাছের মানুষ, আত্নীয় বা বন্ধুবান্ধবদের কাছে কোনো প্রডাক্ট বিক্রি করতে যাবেন, তখন তারা ভাববে আপনি তাদের সাথে ব্যবসা করছেন। তাদের মাধ্যমে টাকা আয় করছেন। যত কম টাকাতেই আপনি বিক্রি করেন না কেন, খুব কম মানুষই সেটা এপ্রিসিয়েট করবে।" 


কিছু কিছু মানুষ সব সময়ই থাকবে যারা আপনার খরচ, সময়, এফোর্ট কোনো কিছুর পরোয়া করবে না । তারা বরং অন্যকে টাকা দিতে, এমনকি অন্যের কাছে ধোঁকা খেতেও দ্বিধা করবে না, তারপরও আপনার কাছ থেকে কিছু কিনতে তাদের বাঁধবে । 


কারণ, তাদের মাথায় সবসময় এটাই কাজ করবে যে, " ও আসলে আমার কাছ থেকে কত টাকা আয় করলো ? "


বরং এটা কখনো ভাববে না যে, 

"ওর কাছ থেকে কিনে আমার কত টাকা সেভ হলো ? "


আপনি যখন ব্যবসা শুরু করবেন, তখন দেখবেন, প্রথম যে মানুষগুলো আপনাকে বিশ্বাস করবে তারা হলেন সবাই আপনার অপরিচিত মানুষ । 


সেই প্রথম সময়টায় আপনার খুব কাছের বন্ধুরা হয়ত আপনার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলবে। কেউ কেউ হয়ত আপনার বিপক্ষেই দাঁড়িয়ে যাবে। অন্যরা হয়ত ভাববে আপনি কিছুই করতে পারবেন না, আপনাকে দিয়ে কিছুই হবে না। 


এরপর একটা সময় আসবে, যখন আপনি আপনার পরিশ্রম আর লেগে থাকার ফল পাবেন। হয়ত একটা ফ্যামিলি ডিনারের সবার গেট-টুগেদারের বিল দিবেন।


দেখবেন সেই টেবিলটায় আপনার সব বন্ধু-বান্ধব, কাছের মানুষজন সবাই সেদিন উপস্থিত আছেন। 

শুধু সেই অপরিচিত মানুষগুলোই নেই।


মোঃ সামসুল দেওয়ান

কম্পিউটার সামগ্রী বিক্রি করার ব্যবসা/Businesses to sell computer content

 কম্পিউটার কম্পিউটার সামগ্রী বিক্রি করার ব্যবসা যেহেতু বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে তাই এই সেক্টর কে কেন্দ্র করে যে কোন ...

Popular Posts